Thursday 22 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হেয়ারকাটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ করেনপন্ডেন্ট
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫

ঢাকা: বিতর্কের মুখে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দেশের সব ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত জানায়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই দুই বছরের জন্য আমানতকারীরা ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পাশাপাশি, চলতি বছর থেকে বাজারভিত্তিক মুনাফা হার কার্যকর হবে, যা বর্তমানে সাড়ে ৮ শতাংশের কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৪ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব আমানতের ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছিল। এমনকি কেউ মুনাফা তুলে থাকলে তা ‘হেয়ারকাট’ করে মূলধনের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশও ছিল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ঘোষণার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক-এর বিভিন্ন শাখায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমানতকারীরা। একীভূত হওয়া একাধিক ব্যাংকও লিখিতভাবে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবহেলার কারণে অর্থ আত্মসাতের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানো শরিয়াহসম্মত নয় বলে মত দেয় সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড।

ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৭৭ শতাংশই খেলাপি।

জানা গেছে, মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেও ভিন্নমত দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত গ্রহণ করে ‘মুদারাবা’ পদ্ধতিতে এবং চলতি আমানত নেয় ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ পদ্ধতিতে। মুদারাবা ব্যবস্থায় আমানতকারী হন ‘সাহিব-আল-মাল’ (মূলধন সরবরাহকারী) এবং ব্যাংক হয় ‘মুদারিব’ (ব্যবস্থাপক) হিসেবে।

এই পদ্ধতিতে চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা বণ্টন হয়। স্বাভাবিক ব্যবসায় লোকসান হলে আমানতকারী লোকসানের অংশ নিলেও, ব্যাংকের অবহেলা, অসদাচরণ বা বিশ্বাসভঙ্গের কারণে লোকসান হলে সম্পূর্ণ দায় ব্যাংকের ওপরই বর্তায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো বাহরাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যানশিয়াল ইন্সটিটিউশন্স (এএওআইএফআই)–এর শরিয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করে। ওই মানদণ্ড অনুযায়ী, মুদারাবা একটি ট্রাস্টভিত্তিক চুক্তি, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ প্রমাণিত হলে মূলধনের দায়ভারও মুদারিব— অর্থাৎ ব্যাংকের—ওপর বর্তায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর