Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আজ সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২২ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪০

মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।

সিরাজগঞ্জ: ঐতিহাসিক রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি)। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল। তখন চলছিল বিলেতি পণ্য বর্জনের আন্দোলন। এর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়।

সে সময় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সপ্তাহে ২ দিন হাট বসত। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা বিলেতি পন্য কেনাবেচা বন্ধ করতে হাটে নামে। আর এই স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসেন পাবনা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আর.এন. দাস জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস.কে. সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ। সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে সেদিন ব্রিটিশবিরোধী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সলঙ্গার ৪০ হাজার সংগ্রামী জনতা।

বিজ্ঞাপন

জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিষ্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য ব্রিটিশ পুলিশকে গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি। এতে সলঙ্গার হাটে সাড়ে ৪ হাজার সাধারণ হাটুরে জনতা শহিদ হন। হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারী সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারী মতে ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়।

মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিল। সলঙ্গার রক্তাক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ। যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র, মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ পাঠাগার, নূরুননাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রি কলেজ, তর্কবাগীশ বিজ্ঞান দাখিল মাদরাসা, মাওলানা তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়, সলঙ্গা ফোরাম পৃথক পৃথকভাবে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর