ঢাকা: জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে দেশব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা কেন্দ্র, শাখা ও বুথে জনসচেতনতামূলক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এক সার্কুলারে এ তথ্য জানান হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ৫ জানুয়ারি পত্রের (সূত্র নং-০৩.০০.০০০০.০০০.০৩৯.১৬.০০০৩.২৫-৯০) প্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে দুটি খাড়া ব্যানার প্রিন্ট করে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ব্যানারগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে— “গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি, আপনার হাতে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’।”
এতে জনগণের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, তারা কি এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে—
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে
- সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না
- সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে
- বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন
- কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না
- সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে
- ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে
- বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে
- মৌলিক অধিকার সম্প্রসারিত হবে, যেমন— ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যাবে না
- দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে
- ব্যানারে আরও উল্লেখ করা হয়, “‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু নিশ্চিত হবে, আর ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে এই জনসচেতনামূলক উদ্যোগ নাগরিকদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।