Saturday 31 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৭

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিল এবং কারিগরি শিক্ষার বৈষম্য দূর করার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। এবার তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান সরকারের দুই উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের যে সুপারিশ করেছে, তা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে বিএসসি ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের একটি পরিকল্পিত চাল। তাই অনতিবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করতে হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ৯ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-

১. ভর্তি কোটা: সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।

২. গ্রেড বৈষম্য: ৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ৯ম গ্রেডে আবেদনের সুযোগ পুনর্বহাল করা।

৩. আবেদনাধিকার: সরকারি সংস্থার ১০ম গ্রেডের পদগুলোতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনের অধিকার নিশ্চিত করা।

৪. ক্যাডার নিয়ন্ত্রণ: জেনারেল শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পদে কোনো প্রকৌশলীকে জেনারেল ক্যাডারে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়া।

৫. পদবি সমতা: পরিচয়ের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা; ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশলী’ লিখলে ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক ‘ডিগ্রি প্রকৌশলী’ ব্যবহার করতে হবে।

৬. উচ্চশিক্ষা: ক্রেডিট আওয়ার বিবেচনায় নিয়ে জেনারেল শিক্ষায় উচ্চতর ভর্তির সুযোগ দেওয়া।

৭. খবরদারি বন্ধ: আইইবি (IEB) ও BAETE-এর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করে সরকারকে কারিকুলাম ও মেম্বারশিপের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ করতে হবে।

৮. সার্টিফিকেট সমতা: ক্রেডিট আওয়ারের ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনারেল সার্টিফিকেটের ন্যায্য সমতা নির্ধারণ।

৯. আইডিইবি-র দাবি: পেশাজীবী সংগঠন আইডিইবি কর্তৃক ঘোষিত সকল যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া।

এসময় শিক্ষার্থীরা আরো জানান, একই দাবিতে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা মনে করেন, কারিগরি শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে এবং প্রকৌশল খাতের অস্থিরতা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর