ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ফের আলোচিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেশে গণভোট হবে কোন আইনে?আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনের প্রকল্প জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই গণভোটের আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে।
বাংলাদেশের সংবিধানে পূর্বে সুনির্দিষ্টভাবে গণভোটের বিধান থাকত। ১৯৭৮ সালে সংবিধানের ধারা ১৪২‑এর অধীনে একটি রেফারেন্ডামের সুযোগ রাখা হয়েছিল। যার ভিত্তিতে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরাতে একটি দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনী তে ধারা ১৪২‑এর এই বিধান বাতিল হয়ে যায়। ফলে সংবিধানে আর রেফারেন্ডামের আইনি ভিত্তি থাকে না।
এই শূন্যতা পূরণ করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে। যাতে স্পষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ম নির্ধারণ করে গণভোটের আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ বলা হয়েছে গণভোট হবে জনমত গ্রহণের জন্য। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের উপর। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬‑এর নির্বাচন কেন্দ্রিক ভোটের দিন।
গণভোটে ভোটাররা গোপনে ভোট দেবেন, আলাদা ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নির্বাচন করবেন, ঠিক যেমন সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে, নিরপেক্ষভাবে এটি পরিচালনা করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা ভোটের প্রচারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার করতে পারবেন না। এটি আইনের আওতায় অপরাধ বা শাস্তিযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
গণভোটে সাধারণ ভোটাররা মূলত একটি প্রশ্নের ওপর ভোট দেবেন ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়নের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলছেন কি না?’
জুলাই সনদ‑এ ৪৮টি বিশদ সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধকরণ, সংসদীয় কাঠামো পরিবর্তন, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে রেফারেন্ডামের জন্য স্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি আর নেই। পঞ্চদশ সংশোধনীতে এটি সরানো হয়েছে। তাই নতুন অর্ডিন্যান্স ঐতিহাসিক হলেও তা নিয়ে কিছু আইনি অস্পষ্টতা ও প্রশ্ন উঠেছে।
কিছু রাজনৈতিক দলও বলছে, সংবিধানে এটি স্পষ্ট না থাকলে ২০২৬‑এর নির্বাচন ও গণভোটের সময় সূচি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতে পারে।
গণভোটের আইনি ভিত্তি: গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ নতুন আইন।
কবে হবে: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬‑এর নির্বাচনের দিন।
কি বিষয়ে ভোট হবে: সংবিধান সংশোধনের উপর ভিত্তি করে ‘হ্যাঁ/না’ ভোট।
নির্বাচন পরিচালনা করবে: নির্বাচন কমিশন।
আইনি বিতর্কও আছে: সংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ২০২৬‑এর গণভোট হবে একটি মাইলস্টোন ঘটনা। যেখানে নাগরিকরা সরাসরি তাদের মতামত জানাতে পারবেন সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এবং সেই ভোটের আইনি ভিত্তি হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫।
এ আইন ও প্রক্রিয়া শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের এক বিরল সুযোগও তৈরি করছে।