Saturday 31 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শেষ হলো ১৮তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩১ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: চার দিনব্যাপী ১৮তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার–২০২৬ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সক্ষমতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এ মেলার সমাপ্তি ঘটে।

বিপিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মি. মাহবুবুর রহমান, সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (ICC), বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মি. মো. জসিম উদ্দিন, সভাপতি, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি; মি. শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, উপ-প্রকল্প পরিচালক (EC4J) ও যুগ্ম সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; এবং মি. এ. এস. এম. কামাল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি, BPGMEA ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মি. শামীম আহমেদ, সভাপতি, BPGMEA। অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মি. আকাই লিন, ওভারসিজ ডিরেক্টর, চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোং লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার এখন একটি সুপরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ মেগা ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ১৮–২০টি বিদেশি দেশের অংশগ্রহণে এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক, বিপণনকারী ও রপ্তানিকারকদের উপস্থিতিতে এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। এ ধরনের মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বাধুনিক প্লাস্টিক প্রযুক্তি, পণ্য ও যন্ত্রপাতির পরিচিতি তুলে ধরা এবং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

তিনি বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পণ্যের কার্যকর প্রচার ও ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত জরুরি। তিনি দ্রুত প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিপেট (BIPET)-কে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন সম্ভাবনাময় প্লাস্টিক সাব-সেক্টর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কমপ্ল্যায়েন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নভেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক শিল্প লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিক্স খাতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বিশ্বব্যাপী সার্কুলার ইকোনমি ও রিসাইক্লিং বাজারের আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, অথচ বাংলাদেশ এখনো এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০–৩৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় অংশ রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, IPF-26 প্রমাণ করেছে যে প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পগুলো কৃষি, তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, ই-কমার্স এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ১৮টি দেশের অংশগ্রহণ, ৭০০-এর বেশি স্টল এবং বিশাল প্রদর্শনী এলাকা নিয়ে IPF-26 বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

তিনি বলেন, গত এক দশকে প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন এই মেলায় দেখা গেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অটোমেশন, রিসাইক্লিং প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার শিল্পের ইতিবাচক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। উদ্যোক্তারা এখন দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান, কমপ্লায়েন্স ও টেকসই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা শিল্প বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুণগত মান, উদ্ভাবন ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এবং “মেড ইন বাংলাদেশ” পণ্যের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিপিজিএমইএ’র সভাপতি মি. শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, IPF-26 শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; এটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার একটি মিলনমেলা। এই মেলা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং জোরদার করেছে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।