ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের আদমজি এলাকায় বাসা ভাড়ার টাকা চাওয়ায় শিশু সন্তানদের সামনেই বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে আহত করেছে ভাড়াটিয়া। আহত মারিয়া আক্তারকে (৩২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আদমজি ধনকুন্ডা উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মারিয়া আক্তারের স্বামী গাড়ি ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আদমজি ধনকুন্ডা উত্তরপাড়ায় তাদের নিজেদের বাড়ি। তাদের ফ্ল্যাট ছাড়া বাকি সব ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। এক ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকত মো. রিয়াজ (৪৫) নামে এক ভাড়াটিয়া। মাসিক ৮ হাজার টাকায় একটানা প্রায় দেড় বছর তাদের বাড়িতে ভাড়া ছিল রিয়াজের পরিবার। তবে ঠিকমত ভাড়া না দেওয়ায় বছর খানেক আগে তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বললে তখন তারা বাসা থেকে চলে যায়। কিন্তু বকেয়া বাসা ভাড়ার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে যায়নি। এরপরে ফোন করে সেই টাকা চাইলে নানা তালবাহানা করত সে। সর্বশেষ মাস খানেক আগে মারিয়া ওই ভাড়াটিয়াকে ফোন করে টাকা দিয়ে যেতে বলেন।
সাইফুল আরও জানান, আজ শনিবার দুপুরের দিকে খাবার খেয়ে বাইরে চলে যাই। এর কিছুক্ষণ পর বাসায় আসে ওই ভাড়াটিয়া রিয়াজ। আমার স্ত্রী মারিয়ার সঙ্গে বাসায় ভেতর কিছুক্ষণ কথা বলার পর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ধারালো চাপাতি বের করে সন্তানদের সামনেই এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে তাকে। ছুরিকাঘাতের পর দৌড়ে ঘাতক বাসার পিছন দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। পাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
মারিয়াকে উদ্ধার করে হাসপতালে নিয়ে আসা আরেক ভাড়াটিয়া ইমান আলী জানান, আহত মারিয়ার চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন বাড়িওয়ালী। তাকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর দেখে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, মারিয়ার দুই হাতে বেশ কয়েকটি কুপের জখম রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাতের মাংশ ঝুলে গেছে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রায় বিচ্ছিন্ন। ধারালো অস্ত্রের আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার এই জখম হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি বিভাগে তার হাতের অস্ত্রোপচার চলছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়িওয়ালা সাইফুল ইসলাম মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। সেই সাথে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান সন্ধ্যার দিকে আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। তার দুই হাতেই ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।