ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীকল্যাণসহ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দীর্ঘদিন পর ডাকসু কার্যক্রম সচল করা, অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানোসহ মোট ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সারাদেশে অভ্যুত্থান পূর্ব গণজাগরণের মাধ্যমে নবযাত্রা শুরু করে আমাদের বাংলাদেশ। গণআন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একে একে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টরসহ বেশিরভাগ হলের প্রভোস্ট এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়ে। এরকম অস্থির ও অস্বাভাবিক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন।
প্রশাসনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সকল বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে ক্লাস চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলগুলোকে সংস্কার করার যে চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল, সেসব তারা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এর পাশাপাশি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনিক সংস্কার ও পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। জনসংযোগ অফিস থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে ইমেইল পাঠানো হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়ক হয়েছে। এই হিসেবে আজ গত এক বছর পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড ও প্রধান অর্জনসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভবিষ্যত উদ্দেশ্যের বিষয়ে বলা হয়, আমাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এই কার্যক্রম যেন ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে এবং কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়। সার্বিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি।