Sunday 01 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজধানীতে পৃথক স্থানে শিশুসহ ৩ জনের আত্মহত্যার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৩ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৪

প্রতীকী ছবি।

রাজধানী: রাজধানীর ওয়ারী, যাত্রাবাড়ী ও হাজারীবাগে দুই শিক্ষার্থী সহ তিনজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃতরা হলেন- ওয়ারীর চা দোকানের কর্মচারী মানিক (২৬) ও যাত্রাবাড়ীর স্কুল শিক্ষার্থী মো. রনি (১০) ও হাজারীবগের তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী দীন ইসলাম ইমন (২১)।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত ইমনের বন্ধু মেহেদী হাসান তোহা জানান, ইমন তেজগাঁও কলেজে সমাজবিজ্ঞান ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। জিগাতলা নতুন রাস্তা ৫ তলা ভবনের নিচতলায় একটি রুমে মেস করে থাকতেন তিনি। ইমন কি কারনে আত্মহত্যা করেছে তা আমার জানা নেই। তবে একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ইমনের। প্রেমঘটিত কোনো কারনে হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ইমনের মামা মো. মঞ্জু বলেন, তাদের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বটতলা এলাকায়। তার বাবা আব্দুল হাকিম গ্রামে থাকেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ইমন ছিল ২য়। রাতে পুলিশের মাধ্যমে ইমনের মৃত্যুর খবর জানতে পারি। ছুটিতে ইমন বাড়ি গিয়েছিল। তিনদিন আগে ঢাকায় আসে। পরিবারে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে কি কারনে ইমন আত্মহত্যা করেছে সেটা আমাদের জানা নেই।

এদিকে হাজারীবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বলেন, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ট্রপোল নাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে জিগাতলার ওই মেস যাই। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই । মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই রুমে দুইজন থাকতো। রুমমেট নাঈম চাকরি করেন। রাতে বাসায় এসে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে সে পরে ট্রিপোল নাইনে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়।

এদিকে ওয়ারী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর মোড়ল বলেন, মৃত মানিকের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকশিলা সরকার বাড়ি। বাবা মৃত ইউনুস সরকার। বর্তমানে ওয়ারী বিসিসি রোডে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় বাড়া থাকতেন। সেখানে একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন মানিক।

খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওয়ারির ওই বাসায় গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে গলায় ফাঁস দিয়া আত্মহত্যা করেছেন মানিক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মৃত রনির বাবা নুর আলম জানান, তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার শিবপুর এলাকায়। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী পুবাইল এলাকায় নান্নু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। রনি ধোলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়ালেখার ফাঁকি দেওয়ায় রনির মা বকাঝকা করেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে বাথরুমে ঢুকে রনি। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও সে বের হচ্ছিল না। সন্দেহ হলে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে বাথরুমের ভেতর গামছা পেছিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। সেখান থেকে তাকে নামিয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে রনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক রনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

সারাবাংলা/এসএসআর/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর