ঢাকা: নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অ্যাকাউন্টটি এডমিনের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সাময়িক অপতথ্যের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমার বক্তব্য ভালো না হলে পায়ের নিচে ফেলে দেবেন, কিন্তু পরিবর্তন করে দেবেন না। আমার বক্তব্যটা আমার মতো করে দেবেন, যেভাবে আমি বলেছি। দুয়েকটা মিডিয়া এ রকম আমার বক্তব্য টুইস্ট করে কাটাকাটি করে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুরে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর বলেন, মায়েদের কি পরিমাণ সম্মান করি তা বাংলাদেশের ৯ কোটি মা সাক্ষী। আমার একটা টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, একাউন্ট হ্যাক করে এখন থেকে ১৫ ঘণ্টা আগে, অত্যন্ত বাজে, অরুচিকর, কুরুচিকর মন্তব্য দিয়ে দিছে মায়েদের নিয়ে। একটা দল দেখলাম হই হই রই রই করে মিছিল শুরু করে দিছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা এখন মিছিল শুরু করে দিল। এই কাজ কে করেছে? ঠাকুর ঘরে কে-রে, আমি কলা খাইনি। কলা মুখে নিয়ে বলতেছে, আমি কলা খাইনি। কলা অর্ধেক খাওয়া অবস্থায়। সাবধান করে দিচ্ছি এই কাজ করবেন না। একেবারেই ইতর শ্রেণি না হলে এই কাজ করতে পারে না। আপনি আপনার কর্মসূচি আদর্শ দিয়ে আমাকে মোকাবিলা করুণ। চোরাই পথে কেন?’
শেরপুর অঞ্চলের কিছু দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, বাংলাদেশের কোনো জেলা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়হীন থাকবে না। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া কিছু যন্ত্রপাতি আর বিল্ডিং করে দিলে বিশেষায়িত হাসপাতাল করে দিলে হবে না। বরং এটি মানুষ মারার আরেকটি রিফাইন কারখানা হবে। এ জন্য আমরা মেডিকেল কলেজ দিয়ে শুরু করব, ওটা হবে ইনশাআল্লাহ।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রেললাইন সম্প্রসারণ করা, সারা বাংলাদেশকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা দুটি কারণে প্রয়োজন। কারণ এই জার্নিটা সেইফ এবং লেস কস্টলি। ব্যয় কম এবং তুলনামূলক নিরাপদ। ইনশাআল্লাহ, এটি আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেখবো। ভেজিটেবল ইপিজেট। যে শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদন হয়, তা পঁচে গলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। ইন্ডাস্ট্রি না করলে কাজ আসবে কী করে? ইন্ড্রাস্ট্রি করব, কাজও তুলে দেব। মাথা গরম করব না আমরা। দেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস চলে যাওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে।’
বক্তব্যের শুরুতে জামায়াত আমির শহিদ কামরুজ্জামানকে স্মরণ করে বলেন, এই মানুষটার লাশটিকেও তারা সহ্য করতে পারেনি। ভালোবাসা কায়েম করো, জোর করে আদায় করা যায় না। মাত্র কয়েকদিন আগে তরতাজা শহিদ। প্রশাসনের ডাকে একটি মিটিং। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন আলেমেদ্বীন, একজন শিক্ষক রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অবশ্য যারা হত্যা করেছেন, তাদের জন্য এটি নতুন না। আমরা তো তাদের দলের না। নিজের দলের ২ শতাধিক মানুষকে তারা হত্যা করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, যারা মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে খুন করে ফেলে, এটি আবার কোন ধরনের রাজনীতি। সবচেয়ে মজলুম সংগঠনের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এক এক করে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ঠান্ডা মাথায় ১১ জন শীর্ষ নেতাকে খুন করা হয়েছে। হাজারের ওপর সহকর্মীকে দুনিয়া থেকে বিনা বিচারে বিদায় করা হয়েছে। সাতশোর মতো সহকর্মীকে আয়না ঘরে বন্দি রাখা হয়েছে। তাদের আটজনের খবর-হদিস এখনো জানি না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দলের নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়াতে পারে, তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমরা আপনাদের অনুনয় বিনয় করছি, মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে। মায়ের সন্তানেরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না।
সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে শেরপুরের শ্রীবর্দী যান জামায়াতের আমির। সেখানে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের বাড়িতে যান, তার কবর জিয়ারত করেন। পরে পৌর শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌরপার্কে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। জেলার ৫২টি ইউনিয়ন জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক যোগ দেন।
জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল হক ফারুকী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-১ (সদর) আসনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক ও জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।