Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটে পাকিস্তানকে সতর্ক করল আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৭ | আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০

গুঞ্জনটা চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান, আভাস পাওয়া গিয়েছিল এমনটাই। শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো সেটাই। বিশ্বকাপে গেলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে তাদের এমন ঘোষণায় ক্ষুব্ধ আইসিসি।

নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপ বর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পাশে ছিল পিসিবি। ধারণা করা হচ্ছিল, তারাও টুর্নামেন্ট বয়কট করবে। তবে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট না করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

তবে পিসিবির এক্স একাউন্টে দেওয়া সেই ম্যাচ বর্জনের ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর আইসিসি এক বিবৃতি বলেছে, এই বিষয়ে এখনও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, ‘২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচে অংশগ্রহণের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার যে অবস্থানের কথা জানিয়েছে, তা আইসিসির নজরে এসেছে। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানার অপেক্ষায় আইসিসি। তবে নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশগ্রহণের এই ধারণা একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেখানে সূচি অনুযায়ী সব দল সমান শর্তে লড়াই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আইসিসি আরও বলেছে, তাদের টুর্নামেন্টগুলো ক্রীড়াসুলভ সততা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তাই শুধু নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ এসব প্রতিযোগিতার চেতনা ও শুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করে। আইসিসি জানায়, তারা রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়ে সরকারের ভূমিকাকে সম্মান জানায়। তবে এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী খেলার স্বার্থে বা বিশ্বব্যাপী ভক্তদের ভালোর জন্য নয় বলে মনে করছে তারা।

আইসিসি এখনো আশাবাদী, পাকিস্তান নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাবে, ‘আইসিসি আশা করছে, পিসিবি নিজ দেশে ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার অংশীদার ও সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেও। আইসিসির অগ্রাধিকার হলো আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা, যা পিসিবিসহ সকল সদস্যের দায়িত্ব হওয়া উচিত। আশা করা হচ্ছে যে, পিসিবি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা সকল অংশীদারের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের কোনো কারণ যদিও উল্লেখ করেনি পাকিস্তান সরকার। তবে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া নিয়ে আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তখনই তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলের খেলা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বৈরিতায় ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ বন্ধ আছে এক যুগের বেশি সময় ধরে। কেবল বৈশ্বিক ও এশিয়ান আসরেই দেখা যায় প্রতিবেশী এই দুই দেশের লড়াই। গত বছর এশিয়া কাপে ভারত অধিনায়ক ও তাদের ক্রিকেটাররা হাত মেলাননি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে, এ নিয়ে ছড়ায় তুমুল বিতর্ক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর