Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে লোহার খনিতে নতুন করে অনুসন্ধান, মিলতে পারে সোনা-তামা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৫

রংপুর: দীর্ঘ ছয় দশকের অবহেলার পর অবশেষে দেশের প্রথম লোহার খনিতে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারি পাথারে কূপ খননের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি সোনার মতো মূল্যবান খনিজের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই অনুসন্ধান তিন মাসব্যাপী চলবে এবং ১ হাজার ২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি) এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে, এটি ‘জিডিএইচ-৭৯/২০২৫’ নামে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিএসবির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মান্নান, উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আলী আকবর, পরিচালক (ভূতত্ত্ব) আরিফ মাহমুদ, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা পপি খাতুন, শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেসবাহুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি এবং মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির প্রতিনিধিরাও যোগ দিয়েছেন।

জিএসবির উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আকবর আলী জানান, এখানকার বেজমেন্ট শিলা শক্তিশালী হওয়ায় ধাতব খনিজের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

পরিচালক আরিফ মাহমুদ বলেন, খনিজ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পরই সঠিক তথ্য জানা যাবে। এটিকে শুধু লৌহখনি বলা এখনই সঠিক নয়, কারণ অন্যান্য ধাতুরও উপস্থিতি থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, এই খনিটি প্রথম আবিষ্কৃত করে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ। স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিমান থেকে চুম্বকীয় জরিপের মাধ্যমে ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকায় লোহার অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। সেই সময় চারটি কূপ খনন করা হয় এবং মুখগুলো কংক্রিট দিয়ে ঢেকে চিহ্নিত করা হয়, যা এখনও দৃশ্যমান। পাক-ভারত যুদ্ধের পর এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৯৯-২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার পুনরায় জরিপ চালায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিকটবর্তী মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুরে কূপ খনন করে কিছু খনিজের সন্ধান পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুসন্ধানে লোহা ছাড়াও তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এবং সোনার মতো মূল্যবান ধাতুর সন্ধান মিলতে পারে। উত্তরাঞ্চলে অনুরূপ খনি যেমন- দিনাজপুরের হাকিমপুরে আবিষ্কৃত লোহার খনিতে প্রায় ৫০০-৬০০ মিলিয়ন টন খনিজ মজুত রয়েছে, যার মধ্যে উচ্চমানের লোহা, তামা, নিকেল এবং ক্রোমিয়াম অন্তর্ভুক্ত। এই খনিগুলো উত্তোলন করলে বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সরকার সহায়তা করবে। এটি জাতির স্বপ্ন।’

এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, যেখানে এরই মধ্যে কয়লা, বিটুমিন, পাথর এবং চুনাপাথরের মতো সম্পদের খনি রয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর