ঢাকা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভর করে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের মাঝারি উত্থান ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার কারণে চার মাস পর প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়াল।
সোমবারের (০২ ফেব্রুয়ারি) উর্ধ্বগতির মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবসেই সূচক ও লেনদেন ইতিবাচক থাকল। এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর ডিএসইতে ৭০০ কোটি টাকার অধিক লেনদেন হলো।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। সেখানেও সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় ডিএসই-তে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়ে। সেখানে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক পুঁজিবাজারে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে এই ইতিবাচক প্রবণতা বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সব খাত মিলে দাম বেড়েছে ২১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৭টির। আর ৬৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে একটির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ২৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার দিনে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬০টির দাম কমেছে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৪৬ কোটি ২৪ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬২৬ কোটি ৬৮ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
অপর বাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।