চট্টগ্রাম ব্যুরো: শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি-অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল থাকলেও বন্দরের অভ্যন্তরে অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। এরপর শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বন্দরের দুই প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরসহ আশপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শনিবারও (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়।

তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। আমদানি-রফতানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় গতকাল সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়।
জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মচারীরা হাজিরা দিলেও কাজে যোগ দেননি।
কিন্তু গত তিনদিনের মতো আজও সকালের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রমে বন্দরের কর্মচারি ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।

বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন।’
এদিকে স্কপের ডাকে শ্রমিক-কর্মচারীরা নগরীর সীম্যান্স হোস্টেল মোড় ও এছাক কনটেইনার ডিপোর সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ করছেন।