ইবি: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন (প্রভাষক- আল কুরআন, আল হাদিস, দা’ওয়াহ, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ) পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বৈষম্য দূর করতে তিন দফা দাবি জানান এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তারা উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি ও ডিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির আহ্বায়ক এস এম সুইট ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা ‘অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়?’, ‘ বৈষম্য দূর কর, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত কর’, ‘অনার্সে যোগ্যতা, তবু কেন বঞ্চনা’, ‘একই পদে দুই নীতি, মানি না মানবো না’, ‘শহিদের বাংলায়, দ্বিচারিতার ঠাঁই নাই’ ও ‘শিক্ষা সবার অধিকার, বৈষম্য কেন বার বার?’ ইত্যাদি প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- মাদরাসায় প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে অন্যান্য বিষয়ের মতো আরবি ও ইসলাম শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও স্নাতকোত্তরের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে শুধু স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিকেই আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা, সহকারী মৌলভী পদে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে বিএড/এমএড-এর পূর্বশর্ত ব্যতিরেকেই ১০ম গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার ব্যাপকতা ও মানদণ্ড বিবেচনায় কামিল স্তরে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, আদিব ও ফকীহ বিষয়ে অন্তত ৪ জন করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বিগত সময়ে মাদরাসা এবং ইসলামী শিক্ষার সাথে বৈষম্য দেখে এসেছি। আমরা আর কোন বৈষম্য দেখতে চাই না। অন্য সকল বিষয়ে স্নাতক দিয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করা যায়, শুধুমাত্র আরবি ও ইসলামী শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনার্স ডিগ্রি দিয়ে সহকারী মৌলভীতে ১১তম গ্রেড করা হয়েছে, যেটা পূর্বে ১০ম গ্রেড ছিল। আমরা বৈষম্য দূর করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছি। যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নেমে পড়বো।
শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করার যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বৈষম্যকারীরা এখনো স্তরে স্তরে বসে থেকে ইসলাম ও মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যদি এই বৈষম্যমূলক শর্তগুলো বাতিল না করা হয়, তবে সাধারণ ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শুধু জুলাই মাসেই রক্ত দেয়নি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ১৯৪৭, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আজাদির লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে জুলাইয়ের ১৭ তারিখ থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি শুধু রক্ত দিয়েই যাবে আর বারবার বৈষম্যের শিকার হবে? এই আন্দোলনে যেন আর একটি প্রাণও না ঝরে, কোনো পরিবার শূন্য না হয়। আন্দোলন জোরদার করে এনটিআরসিএকে বাধ্য করতে হবে এবং দাবি না মানলে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মার্চ টু এনটিআরসিএ কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।
উল্লেখ্য, এনটিআরসিএর বিগত সার্কুলারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের নাম উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ করার কারনে নতুন করে সংযোজন করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।