Wednesday 04 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাপে পড়ে তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলেছেন: আখতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

রংপুর: নিজেদের ম্যান্ডেট হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জনচাপে পড়ে অনেক দিন পর তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের শত শত ভিডিও রয়েছে ‘না’ ভোটের পক্ষে, এবং ছাত্রদলের ক্যাম্পেইনও ছিল ‘না’ ভোটের পক্ষে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের বালাপাড়ায় উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেনের এই অভিযোগ এসেছে এমন সময়ে যখন আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ৩০ জানুয়ারি রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসভায় ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা তার প্রচারণার শুরু থেকে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট অবস্থান। তিনি বলেছিলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সম্মান করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে, যাতে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরে আসে।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘রংপুরে এসে তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ কমিশনে আমরা তাদের আন্তরিকতা দেখিনি। আমরা যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছি, সেখানেও তাদের আন্তরিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং জনচাপে পড়ে এবং নিজেদের ম্যান্ডেট হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলেছেন। তাদের নেতাকর্মীদের শত শত ভিডিও রয়েছে ‘না’ ভোটের পক্ষে। ছাত্রদলের ক্যাম্পেইনও ছিল ‘না’ ভোটের পক্ষে। ছাত্রদল তাদের ফেসবুক পেজে সুন্দর গ্রাফিক্স করে ‘না’ লিখে পোস্ট দিয়েছে। তাই তারা যতই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলুক না কেন, জনগণ তাদের গ্রহণ করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের যেদিকে সম্ভাবনা দেখবে, সেদিকেই সমর্থন জানাবে। আগামী নির্বাচনে একটি বিষয় খুবই ইন্টারেস্টিং—আগে যারা আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াতকে ভোট দিতেন, এখন তারা বিএনপিকে ঠেকাতে এনসিপি-জামায়াত তথা ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে যে পরিবর্তন, যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন—এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দ্বারা নিপীড়িত ছিল। আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তির পর তারা যে বড় স্বপ্ন দেখেছিল, সেখানে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তা তারা ভাবতেই পারেনি। সে কারণেই তারা সেখান থেকে সরে এসে ১১-দলীয় জোটের কথা ভাবছে। ফলে দেশি-বিদেশি যত ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, জনগণ ১১-দলীয় জোটকে বিজয়ী করে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর