Wednesday 04 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার: আরিফুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৪ | আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫০

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১০ দলের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেছেন, নারীদের অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি তাদের মৌলিক অধিকার। নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান থানার মহিলা শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা-১৮ আসনের নারীদের জন্য নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই এলাকায় বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু করা হবে এবং সকল গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া কর্মজীবী ও সাধারণ নারীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। এই মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যেই প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষকে বিজয়ী করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে এই প্রার্থী বলেন, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এবারের নির্বাচনকে তিনি শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যেই জামায়াত-এনসিপিসহ ১০টি দল মিলে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপির কড়া সমালোচনা করে আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রতিপালন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের হামলার শিকার শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং দীর্ঘদিন যারা তাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল তারাও আজ বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে আহত ও নিহত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান পশ্চিম থানা আমীর আবু সাঈদ শাহনাওয়াজ, নায়েবে আমীর মো. মামুন, সেক্রেটারি আলী হোসাইন মুরাদ, মহিলা বিভাগের উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালিকা মর্জিনা খাতুন এবং দক্ষিণখান পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফাতেমা ইয়াছমিন রুমা।

সমাবেশ শেষে দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোড, বনবিথি আবাসিক এলাকা এবং আজমপুর ব্র্যাক মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন আরিফুল ইসলাম। এ সময় তার সাথে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাত হারানো আলোচিত যোদ্ধা আতিকুল গাজী। এর আগে সকাল ১০টায় কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকা থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয় যা মোল্লারটেক গিয়ে শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর