ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার স্লিপের আকার এবং জনসভায় মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সকল রিটানিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ-এর সই করা এ গেজেটে জানানো হয়, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ সংশোধন করে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
ভোটার স্লিপে নতুন বিধি-নিষেধ
সংশোধিত বিধিমালার ৮(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল ভোটারদের যে স্লিপ প্রদান করবেন, তার আকার কোনোভাবেই ১২ সেন্টিমিটার × ৮ সেন্টিমিটার এর বেশি হতে পারবে না। আগের বিধিমালায় স্লিপে প্রার্থীর নাম বা ছবি ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে আকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাইক ও লাউড স্পিকার ব্যবহারে শিথিলতা
নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি ১৭-তে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:
জনসভায় মাইক: এখন থেকে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি একক কোনো জনসভায় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন। আগে ৩টির বেশি মাইক ব্যবহারে যে বিধিনিষেধ ছিল, জনসভার ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে।
সময়সীমা: প্রচারণা চলাকালীন মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
শব্দের মাত্রা: প্রচারণায় ব্যবহৃত মাইকের শব্দের মানমাত্রা কোনোভাবেই ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সকল প্রার্থী ও দলকে এই সংশোধিত আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।