ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ১১৬টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
এ সময় ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সচিব বলেন, “ইইউ ডেলিগেশন চিফ মূলত আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে খোঁজ নিতে এসেছিলেন। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো শঙ্কা আছে কি না, সেটিও তারা জানতে চেয়েছেন।
ব্যালট পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ফলে কয়েকটি আসনে ব্যালট নতুন করে ছাপাতে হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ব্যালট গন্তব্যে পৌঁছাবে।
গুজব রোধে মেটা ও এআই-এর সহায়তা
নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার (Misinformation) রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন: ”আমরা মেটার (Meta) সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা ইন্টারনেটের গতি কমাতে চাই না। বরং বিদ্রূপাত্মক, আক্রমণাত্মক বা অপপ্রচারমূলক কনটেন্ট সরিয়ে নিতে মেটাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কমিশনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) সেল এ বিষয়ে সরাসরি কাজ করছে।”
মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাত দিন সেনাবাহিনী এবং আট দিন আনসার ও নিয়মিত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ১৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকাও দ্রুত পাওয়া যাবে বলে সচিব জানান।
ডাক ও কয়েদিদের ভোট
নির্বাচন কমিশন জানায়, ডাকযোগে ভোটের জন্য ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮টি ইতিমধ্যে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশ নিতে ৬ হাজার ৯১ জন কয়েদি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের ভোট গ্রহণ ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে, যা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সচিব বলেন, দেশি পর্যবেক্ষকদের কোনো ক্ষোভের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা নেই। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতো তারাও যাতে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।