ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশব্যাপী যে সুসংগঠিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেে এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
মহাপরিচালক বলেন, দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ়করণ, সম্মিলিত শক্তির কার্যকর প্রয়োগ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বলেন, “মৌলিক প্রশিক্ষণের আলোকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনই একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি।”
সমাবেশটি একই সময়ে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে রাজশাহী, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এসব জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা একযোগে মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। এই সমন্বিত আয়োজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস এবং দলবদ্ধভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় সৃষ্টি করেছে, যা অনিয়ম ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, “বাহিনীর ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সচেতনতা আরও জোরদার করা। জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং; তবে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও দায়িত্ববোধ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যের সম্মিলিত শক্তিই যেকোনো অনিয়ম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিরোধে রূপ নেবে।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রসেবার মানসিকতায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দিকে আজ সারা দেশের মানুষ প্রত্যাশাভরে তাকিয়ে আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। সেই স্বপ্নের গর্বিত বাহক হিসেবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাহিনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।”
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদির সুরক্ষা, নির্ধারিত পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলাবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিটি সদস্যকে বাহিনীর একজন যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। এতে জনগণের কাছে আনসার ও ভিডিপির গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে জনআস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
সমাবেশের সমাপ্তিলগ্নে মহাপরিচালক দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, অপশক্তির প্রভাবমুক্ত রেখে জাতিকে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া শুধু দায়িত্ব নয়—এটি একটি পবিত্র আমানত। জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অতীতের মতোই অটল থাকবে। এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একটি শক্তিশালী, পেশাদার ও গণতন্ত্রবান্ধব নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত আরও মজবুত করবে—এটাই বাহিনীর অঙ্গীকার।