রংপুর: রংপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বা ১৯৭১ সাল নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেব।’ এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আতঙ্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
গত ৩১ জানুয়ারি রংপুরের তারাগঞ্জের আলমপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারে এক নির্বাচনি সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিযোগ মিথ্যা ছিল বলেই আমি জেল থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, তাহলে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএনপির সমালোচনা করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে একজন নেতা লন্ডন থেকে এসে বলেন, ‘আমরা দেশ থেকে পালাই না।” কী নির্লজ্জ, অসত্য কথা। যারা নির্লজ্জ, অসত্য কথা বলে-তারা এখন যে ওয়াদা করে-ক্ষমতায় গেলে একটা ওয়াদা পালন করবে না। তারা আমাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে না পেরে-ওই ৭১ সালের কথা নিয়ে আসে। এজন্য আমি বলেছি, আমার এলাকায়, আমার বিরুদ্ধে ৭১-এর অভিযোগ করলে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেব। কারণ আমি ৭১ সালে কোনো অপরাধ করিনি। এটা প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে বের হয়ে এসেছি। এই মিথ্যা অভিযোগ করলে আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
এ টি এম আজহারুল ইসলামের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। নেটিজেনরা লিখছেন ‘একজন প্রার্থী কীভাবে ১৯৭১ নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ করতে পারেন?’, ‘এটা সরাসরি বাকস্বাধীনতা হরণের হুমকি’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য কোনো প্রার্থীর মুখে মানায় না’, ‘আজহারুল ইসলামের জেল-জরিমানার ইতিহাস সবাই জানে, এখন আবার হুমকি দিচ্ছেন?’
এ টি এম আজহারুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি ২০১২ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৭ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কারাবাস করেছেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে খালাস পান। বর্তমানে তিনি রংপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।