আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা লেস্টার সিটির ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ায় চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে হামজা চৌধুরীর ক্লাব। গোল ব্যবধানে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকায় আপাতত অবনমন অঞ্চলের বাইরে আছে ক্লাবটি।
২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের লাভ ও টেকসই নীতি (পিএসআর) ভঙ্গের অভিযোগে গত মে মাসে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ লেস্টারের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপরই এল এই কঠিন সিদ্ধান্ত।
ইপিএল থেকে থেকে গত মৌসুমে অবনমন ঘটে লেস্টারের। বর্তমানে ক্লাবটির স্থায়ী কোচ নেই। গত জানুয়ারিতে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্ত করার পর থেকে কোচবিহীন লেস্টার।
পিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি লোকসান করতে পারবে না। তবে কোনো ক্লাব শীর্ষ লিগের বাইরে প্রতিটি মৌসুম কাটালে এই সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে প্রতি মৌসুমে কমে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী লেস্টারের লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড।
২০২২-২৩ মৌসুমের আর্থিক বিবরণীতে লেস্টার জানিয়েছিল, সে সময় তাদের লোকসান ছিল ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড। আর ২০২২ সালের মে পর্যন্ত আগের ১২ মাসে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়।
তবে এই হিসাবের মধ্যে ‘অ্যাড ব্যাকস’ ধরা হয়নি—যেমন অবকাঠামো নির্মাণ বা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো খরচ, যেগুলোকে প্রিমিয়ার লিগ ও ইএফএল সাধারণভাবে ক্লাবের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখে।
লেস্টারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তে ‘হতাশ’ এবং এই সিদ্ধান্তকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মনে করে ক্লাবটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিমিয়ার লিগ যে নজিরবিহীন মাত্রার শাস্তি চেয়েছিল, কমিশনের পর্যবেক্ষণে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। তবে সুপারিশটি এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। চলতি মৌসুমে আমাদের লক্ষ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনায় নিলে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
লেস্টারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এখন পুরো সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের সামনে কী কী বিকল্প আছে, তা বিবেচনা করছি। আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনায় থাকতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই, যেকোনো পদক্ষেপ যেন ন্যায্য, আনুপাতিক এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’