ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারে নানা অভিজ্ঞতা ও মানুষের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, নির্বাচন তার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে সারাদিন রোদ, ধুলো আর ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হয়। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের কথা শোনা, বক্তৃতা দেওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া সব মিলিয়ে দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়।
তিনি জানান, এই দীর্ঘ প্রচারণার সবচেয়ে সুন্দর দিক হচ্ছে মানুষের দেওয়া ছোট ছোট উপহার। এসব উপহারের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে দরদ ও মমতা। কেউ চকলেট দেন, কেউ আতর, কেউ নিজ হাতে বানানো শাপলা কলি বা চুড়ি উপহার দেন। আবার কেউ কেউ জোর করে হাতে বা পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দেন। দিনশেষে পকেট ঝাড়লে পাওয়া যায় টাকা ও নানা উপহার, যা তার কাছে মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল হয়ে থাকে।

নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্ট।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ওসমান হাদির প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ছিল, তার অংশীদার হিসেবেও তিনি নিজেকে অনুভব করছেন। মানুষ তাদের নিজের সন্তানের মতো দেখে এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। ওসমান হাদির শূন্যতা মানুষের মনে আজও পূরণ হয়নি বলেও তিনি লেখেন।
তিনি আরও লেখেন, মানুষ এখনো জুলাই আন্দোলনের দিনগুলো ভোলেনি। বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় আন্দোলনের স্মৃতি, ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, দোকানদার, চা-ওয়ালা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার গল্প এখনো মানুষের মুখে মুখে। আন্দোলনের সময় অনেক মসজিদ ও মাদরাসার দেয়ালে গুলির দাগ দেখানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম জানান, আন্দোলনের সময় আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হয়। অনেক শহিদ পরিবার রাজনৈতিক হুমকি, মামলা ও অর্থনৈতিক চাপে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজ এলাকার সঙ্গে নিজের শেকড়ের সম্পর্কের কথাও লেখেন নাহিদ ইসলাম। তার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার সঙ্গে জড়িত হলেও নির্বাচনি প্রচারে তিনি এলাকাটিকে নতুন করে চিনছেন বলে জানান। অলি-গলি আর মানুষের সঙ্গে গভীর আত্মীয়তা তৈরি হচ্ছে বলেও লেখেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা তিনি জানেন না। তবে রাজনীতির হার-জিতের ঊর্ধ্বে মানুষের এই ভালোবাসা এবং নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনার অভিজ্ঞতাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।