ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) এ বিষয়ে আইন ও বিধি মেনে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যানবাহন রিকুইজিশনের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ভাড়া বা হারের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে। গাড়ির মালিককে এই অর্থ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনো মালিক যদি নির্ধারিত ক্ষতিপূরণে অসন্তুষ্ট হন, তবে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত সালিশের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, নির্বাচনে মোবাইল ডিউটি, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, নির্বাচনি মালামাল ও ফোর্স পরিবহনের জন্য বিপুল পরিমাণ যানবাহনের প্রয়োজন হবে।
প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংখ্যা-
বাস: প্রায় ২,৪০০টি
ট্রাক: ৩০টি
লেগুনা: প্রায় ১,১০০টি
মাইক্রোবাস: ১,০০০-এর বেশি
এসব যানবাহন পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার এবং টেলিকম খাতের মতো মোট ৯টি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হবে। গাড়িগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের জন্য নেওয়া হবে, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত রাখা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন তাদের চিঠিতে দুটি প্রধান আইনের কথা উল্লেখ করেছে:
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২: এই আইনের ৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজে সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যানবাহন রিকুইজিশন করতে পারবেন। তবে প্রার্থী বা প্রার্থীর এজেন্টের গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না।
২. ডিএমপি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬: এই আইনের ১০৩-ক ধারা অনুযায়ী, জনস্বার্থে পুলিশ কমিশনার সর্বোচ্চ ৭ দিনের জন্য যেকোনো যানবাহন রিকুইজিশন করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে মোতায়েন থাকবে। সংস্থাগুলোকে নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে বলা হলেও প্রয়োজনে বিধি মেনে গাড়ি ভাড়া বা রিকুইজিশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।