ঢাকা: দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা অভিমুখে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ফলে যমুনা ও শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিলে সড়কগুলোতে যান চলাচল শুরু করে। তবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের তাদের অন্তত ২০ থেকে ৩০ আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
আন্দোলনরত সরকারি-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। আমাদের ন্যায্য দাবি জানাতেই এখানে এসেছিলাম। সরকার আমাদের কথা শুনবে, এই বিশ্বাস থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালানো হলো। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী। আজ আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তাতে খুব অপমানিত বোধ করছি। দাবি জানাতে এসে গ্রেনেড আর লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হলো।
এদিন, সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ মিলিত হন আন্দোলনকারীরা। এতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দফতর ও অফিসের কর্মচারীরা অংশ নেন।
এরপর আন্দোলনকারীরা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে রওয়ানা হয়। এসময় পুলিশ তাদের টিয়ারশেল, সাউন্ডগ্রেনেড ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। তারপরও আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরে পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়লে সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।