গাইবান্ধা: জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে সংসদে দাবি জানাব আওয়ামী লীগকে যে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা যেন তুলে নেওয়া হয়। জাতীয় পার্টি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দলগুলো জাতীয় পার্টির পেছনে কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে। এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি- তারা সকাল বিকাল জাতীয় পার্টিকে গালি দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।
শামীম হায়দার আরও বলেছেন, এনসিপি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বললো, কি নতুন বাংলাদেশ গড়লো তারা? বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করে ফলপ্রসূ হলো না। তারা জামায়াতে যোগ দিলো। ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে গেলো। যাহা এনসিপি তাহাই জামায়াত, যাহা জামায়াত তাই এনসিপি। এনসিপি ছদ্মবেশী রাজনীতি করেছে। রাজনীতি কোন ছদ্মবেশী খেলা নয়। আমরা একটি দেশ বাঁচানোর রাজনীতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা দেখছি দেশ ধ্বংসের রাজনীতি হচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই সরকার এবং তার সমর্থিত দলগুলো ফ্যাসিবাদ, হয়তো আরও বড় ফ্যাসিবাদ। আমরা আগেও দেখেছি সরকার নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। এখনো দেখতে পাচ্ছি এই সরকারও নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। গণভোটে দুইটি পক্ষ তৈরি হয়েছে হ্যাঁ এবং না। সরকার গণভোটের পক্ষ নিয়েছে, কোন সরকার গণভোটের পক্ষ নিতে পারেনা। আমরা দেখতে পাচ্ছি গণভোটে মানুষের আগ্রহ কম। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দিয়ে দেশ সংষ্কারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনসমর্থনের অভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
জাতীয় পার্টিকে সারাদেশে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে। একটি পূর্বপরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন আয়োজনের আলামত দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ও ম্যানুফ্যাকচারড নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে।
জাপা মহাসচিব বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার টার্নি পয়েন্ট হবে জাতীয় পার্টি। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই। আমি আপনাদের সন্তান তাই তৃতীয় বারের মতো ভোট দিয়ে প্রথম সারির এমপি বানিয়ে সেবা করার সুযোগ দিবেন।
তিনি বলেন, জনগণের শক্তিতে ভর করেই আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। মানুষের ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবো। দুর্নীতি, দখল আর লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টি হবে সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়নের সমান সুযোগ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তেই জাতীয় পার্টি দায়িত্ব নিতে চায়।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে সংসদে দাবি জানাব আওয়ামী লীগকে যে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়া হয়। যারা দোষী তাদের আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক, আর যারা নিরপরাধ তাদের ফিরিয়ে আনা হোক। আমি বলতে চাই যে দলের বিরুদ্ধে কোন মামলা তাদের কেন নিষিদ্ধ করা হলো? একটি বৃহৎ দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা আইন ও সংবিধানসম্মত হয়নি। একমুখী নির্বাচন করতেই আওয়ামী লীগকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাহলে আমরা কি বিনির্মানের বাংলাদেশ পেলাম।
পথসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আনছার আলী সরদার, জহুরুল ইসলাম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মন্ডল, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন মুক্তিসহ অন্যান্যরা।