ঢাকা: শীতের শেষ ভাগে এসে ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার রেকর্ডে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৩২, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের নির্দেশক। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় এদিন ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়।
আইকিউএয়ারের রিয়েল টাইম একিউআই স্টেশন র্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে খিলক্ষেতের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকায় বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত। এছাড়া ধানমন্ডি, দক্ষিণ পল্লবী, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, সাভারের হেমায়েতপুর, পেয়ারাবাগ রেললাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম বিল্ডিং এলাকায় বাতাসের মান সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা অতিক্ষুদ্র কণা। এই কণাগুলোর ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারেরও কম হওয়ায় সহজেই ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। ফলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া, যানবাহন ও শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজের ধুলা এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
এদিকে আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো। শহরটির একিউআই স্কোর ৪৪৫, যা সরাসরি ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বাতাসের নির্দেশক। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের করাচি ও ভারতের কলকাতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি ও পরিবেশগত বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়। একইসঙ্গে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৫২ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী।
বায়ুদূষণের বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সবাইকে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো, পুরোনো ও ধোঁয়া সৃষ্টি করা যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।