Sunday 08 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আজ থেকে নির্বাচনি মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৩ | আপডেট: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৬

‎ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে একযোগে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন শুরু করছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন নির্বাচনি এলাকায় মোতায়েন থাকবেন।

‎এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুর রহমান মাসউদ ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে ছিল, আজ থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে যুক্ত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ইসির কেন্দ্রীয় সেল এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ সার্বক্ষণিক কাজ করবে।’

বিজ্ঞাপন

‎বাহিনীভিত্তিক মোতায়েন ও নিরাপত্তা বলয়: ‎স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত থাকছেন।

সশস্ত্র বাহিনী: স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় (ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার) ১ লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আনসার ও ভিডিপি: কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারায় থাকছেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য।

পুলিশ ও বিজিবি: পুলিশ বাহিনীর দেড় লাখ এবং বিজিবির ৩৫ হাজার সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।

অন্যান্য: র‍্যাব, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে:

মেট্রোপলিটন এলাকা: সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন।

মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে: সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন।

দুর্গম এলাকা: ২৫টি জেলার বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে ১৬-১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে।

‎তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র এবং বাকিরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী।

রাজধানীতে চলমান বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের বিষয়ে ইসি আবদুর রহমান মাসউদ বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। ভোটাররা উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই মুহূর্তে নির্বাচনি পরিবেশের স্বার্থে সব ধরনের আন্দোলন ও দাবি পরিহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।

‎তিনি আরও জানান, সব ব্যালট পেপার ও বক্স এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করেছেন।

‎ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি আরও জানিয়েছে, ওই দিন নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

‎বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

‎আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর