আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ উদ্যোগে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বেশ কয়েক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট চিঠির অপেক্ষায় থাকলেও নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা না আসায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে আজ রোববার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এমএফএস লেনদেনে বিশেষ সীমাবদ্ধতা কার্যকর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তা সার্কুলার আকারে জারি করা হবে।
বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদসহ এমএফএস প্ল্যাটফর্মগুলোতে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। একই সঙ্গে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০টি এবং মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে বিএফআইইউ প্রস্তাবনা গুলো-
- একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন
- প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা
- দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে
- এই সীমাবদ্ধতা ৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে এসব সুবিধাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।
নির্বাচনকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছ রাখা এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহ রোধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।