Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে শতভাগ প্রস্তুত র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি ও সেনাবাহিনী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০০ | আপডেট: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২২

ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ফাইল ছবি

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আনসার বাহিনীকেও। বাহিনীগুলোর প্রত্যাশা, জনগনকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। এরইমধ্যে আসন ভিত্তিক আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের স্ব স্ব স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর বলছে, প্রায় সোয়া দুই লাখ পুলিশ সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে। এরইমধ্যে সকলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে সকলকে এরইমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। কোন কেন্দ্রে কোন কর্মকর্তা থাকবে তা তালিকা করা হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে কতজন পুলিশ সদস্য থাকবে, কতজন র‌্যাব সদস্য থাকবে, কতজন আনসার সদস্য থাকবে, কতজন বিজিবি সদস্য থাকবে এবং কতজন সেনা সদস্য থাকবে তা তালিকা করেছে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফাইল ছবি

এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে আলাদা ইউনিট। সারাদেশে এক হাজার ২০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এরইমধ্যে ভোটের মাঠে নিয়োগ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারের নির্দেশনা পেয়ে এরইমধ্যে সকল প্রকার কার্ক্রম শেষ করে জেলায় জেলায় সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে র‌্যাব সদস্যরাও মাঠে কাজ শুরু করেছে।

আনসার সদর দফতরের তথ্যমতে, প্রায় ৫ লাখ আনসার সদস্য এরইমধ্যে ভোটের মাঠে দায়িত্ব পেয়েছেন। ভোটগ্রহণের আগের দিন তারা প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন তারা। এ ছাড়া আইন শৃঙ্খলার অবনতি হলে তারা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। অস্ত্রধারী ও অস্ত্র ছাড়া দুই ফরমেটেই দায়িত্বে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন আনসার সদস্যরা।

টহল কার্যক্রমে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ফাইল ছবি

সেনাসদর দফতর জানিয়েছে, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন জানান, আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে আমাদের সদস্য মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে, এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিল না।

আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গায় অবস্থান করেছি। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যদের রেখে বাকি সব সেনাসদস্যকে নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য।

বিজিবি সদর দফতর থেকে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনের মাঠে নেমেছে। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নির্বাচনি মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও তারা কাজ করবে। তবে সেখানে একজন মেজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন। সশস্ত্র অবস্থায় থাকলেও বিজিবির সদস্যরা নন নেথাল উইপন ব্যবহার করবে।

র‌্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, র‌্যাবের ১২ হাজার সদস্য সারাদেশে ১৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটের মাঠে তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে এবং নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে। একইসঙ্গে যৌথ বাহিনীর সঙ্গেও কাজ করবে র‌্যাব সদস্যরা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এরইমধ্যে বার্তা দিয়ে ভোট সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এবারের নির্বাচন হবে স্বরণকালের। এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ভোট করতে বদ্ধ পরিকর।

বিজ্ঞাপন

ধর্মঘট স্থগিত, সচল চট্টগ্রাম বন্দর
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৮

আরো

সম্পর্কিত খবর