ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ গোপন প্রচার, টাকা বিতরণ কিংবা উপহার প্রদানের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ালে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধির ৪(১) উপবিধি অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ নির্বাচনের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা, অনুদান কিংবা উপঢৌকন (উপহার) দিতে পারবেন না।
কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করাও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
শাস্তির বিধান
বিধি ২৭ অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নোক্তভাবে: ১. ব্যক্তি বা প্রার্থীর ক্ষেত্রে: অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। ২. রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে: কোনো নিবন্ধিত দল বিধি লঙ্ঘন করলে অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা
আচরণবিধির ২৮(১) উপবিধি অনুযায়ী, শুধুমাত্র জরিমানা বা জেল নয়, গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে কমিশন। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্ট সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিধি লঙ্ঘন করেছেন, তবে The Representation of the People Order, 1972-এর Article 91E অনুযায়ী কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ইসি আজ সকাল থেকেই প্রচার বন্ধের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়া ভোটের আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতে মাঠে নিয়োজিত আছে নির্বাহী হাাকিম, বিচারিক হাকিম ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটির বিচারকরা। সেসঙ্গে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে পারেন তারা।