ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অনলাইন মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালালে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইসি সানাউল্লাহ নির্বাচনের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। সেগুলো হলো:
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
আসন সংখ্যা: ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে (একটি আসনে ভোট স্থগিত)।
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।
প্রার্থী সংখ্যা: ২ হাজার ২৮ জন (নারী প্রার্থী ৮১ জন)।
ভোটকেন্দ্র: মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সাধারণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে এবার ব্যাপক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:
সিসি ক্যামেরা: ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
আধুনিক সরঞ্জাম: নজরদারির জন্য প্রথমবারের মতো ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এই ক্যামেরার ফিড সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবার সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথেই গণনা করা হবে।
”পোস্টাল ব্যালটে শতাধিক প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই ফলাফলের জন্য তাড়াহুড়ো করা যাবে না। তবে আশা করছি বেশিরভাগ ফলাফল রাতেই পাওয়া যাবে।”
সময়সীমা: সাড়ে ৪টার পর কেন্দ্রের সীমানার মধ্যে ভোটার উপস্থিত থাকলে তাদের সবার ভোট নেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞা: ভোটাররা ভোটদানের গোপন কক্ষে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
পোস্টাল ভোট: এ পর্যন্ত ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে।
সামগ্রী বিতরণ: আগামীকাল (বুধবার) থেকে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে এবং সন্ধ্যা নাগাদ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
কালো টাকার ছড়াছড়ি রোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।