ঢাকা: ভোটের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি সারাদেশের দলীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, বিভিন্ন এলাকার সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং একইসঙ্গে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। এদিন তিনি দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমও সম্পন্ন করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান বর্তমানে গুলশানে তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। সকাল থেকেই তিনি সারাদেশের প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সরাসরি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচনী পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তা তিনি নিজেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সকাল থেকে দিনভর তিনি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাটান বলেও জানান রুমন।
তিনি আরও জানান, এ সময় তারেক রহমানের বক্তব্য ও নির্দেশনা এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। দুপুরে তিনি গুলশানের বাসা থেকে দলের কার্যালয়ে যান এবং সেখানে সাংগঠনিক নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি ২৯১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার মাধ্যমে আরও ৯টি আসনে জোটগতভাবে নির্বাচন করছে দলটি।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বরিশাল, ফরিদপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনী বক্তব্য দেন।
ঢাকায় প্রথম দিন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে রাজধানীতে তার প্রচারণা শুরু করেন। এরপর তিনি ঢাকা–১৬, ১৫, ১৪, ১৩ ও ১১ আসনসহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় জনসভায় অংশ নেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি ঢাকা–১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে জনসভা দিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে ঢাকা–১০, ৮, ৯, ৫, ৪ ও ৬ আসনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ বালুর মাঠে (সাবেক আজাদ মাঠ) অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। ওই জনসভা শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সব মিলিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে মাত্র ৯ দিনে তিনি ৪১টি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন।