ঢাকা: রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ পৌঁছে যাবে। আর রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছাবে আজ সন্ধ্যার মধ্যে।
ভোটের সময়সূচি ও ব্যালট পদ্ধতি
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন:
- সাদা ব্যালট: সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য।
- গোলাপি ব্যালট: গণভোটের জন্য।
- একনজরে নির্বাচনি পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভোটার বিন্যাস: পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন; নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটকেন্দ্র: মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা: প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ও অংশগ্রহণকারী দল
২৯৯টি আসনে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত) ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন।
নিরাপত্তায় বাহিনীর বিশাল বহর
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে:
- সেনাবাহিনী: ১ লাখ ৩ হাজার।
- নৌবাহিনী: ৫ হাজার (উপকূলীয় ১৭ আসনে)।
- বিমান বাহিনী: ৩ হাজার ৫০০।
- পুলিশ ও র্যাব: ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২ জন।
- আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন।
- বিজিবি ও অন্যান্য: ৪২ হাজার ৯৬০ জন।
আচরণবিধি ও বিচারিক তৎপরতা
নির্বাচনী অপরাধ দমনে ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম মাঠে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪৬৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।