কক্সবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার বন্ধ হওয়ার একদিন পরও কক্সবাজারে কালো টাকা বিতরণ, গোপন প্রচারণা ও অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার সদর আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরের পক্ষে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও মিডিয়া টিমের প্রধান আল আমিন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আচরণবিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হলেও বিভিন্ন এলাকায় গোপনে প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কালো টাকা বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। কক্সবাজার সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং করে মহিলা সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগও তোলা হয়।
জামায়াত নেতারা দাবি করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়। এতে বাকি সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতারা। ভোটের দিন লোডশেডিং হলে পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে, এ আশঙ্কা প্রকাশ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়কারী মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, অ্যাডভোকেট এনামুল হক শিকদার, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির খোরশেদ আলম আনসারি, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত নেতারা বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করা হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।