জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ বড় হলেও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর থেকে দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে। নির্বাচিত হলে অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলাও তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এতে অল্প কিছু ব্যক্তি লাভবান হলেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে গেছে।
অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়েও ভালো করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও বড় ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিজেরাই অর্জন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন; নতুন কোনো জোটের প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে বিবেচনায় থাকবে। এছাড়া আইন করে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন বলেও জানান তিনি। তবে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন।