ঢাকা: শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির জেরা স্থগিত করা হয়েছে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভুঁইয়ার আদালতে পরীমনির জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তার অনুপস্থিতিতে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৯ আগস্ট নির্ধারণ করেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নার্গিস পারভীন গণমাধ্যমকে জানান, মামলাটি এদিন শুনানির জন্য ধার্য ছিল। পরীমনি অসুস্থ থাকায় তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি পরীমনির অ্যাপেন্ডিসাইটিসজনিত অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিশ্রামে রয়েছেন। এ কারণে আদালতে উপস্থিত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত বছরের ২৬ মে একই মামলার শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পরীমনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ জুন সাভার থানায় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী ও শাহ শহিদুল আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসির, তুহিন সিদ্দিকী ও শাহ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত তা আমলে নেন।
পরে ২০২২ সালের ১৮ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে পূর্বপরিচিত তুহিন সিদ্দিকীর মাধ্যমে কৌশলে পরীমনিকে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে নেওয়া হয়। সেখানে নাসির ইউ মাহমুদ তাকে জোর করে মদ পান করানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার আদালতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।