ঢাকা: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচির কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তার পরিবর্তে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জানা গেছে, শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেন। আমন্ত্রণটি পাঠিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সূত্রগুলো জানায়, ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নেয়ার পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে মোদির পক্ষে ঢাকা সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। ওই সামিটে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী নেতা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ প্রায় ২০ দেশের শীর্ষ নেতা। সামিটের ফাঁকে মোদি ও ম্যাখোঁর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আলোচনা ছিল, ভারতের পক্ষ থেকে উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণান অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে আসতে পারেন। তবে শেষ মুহূর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সফর চূড়ান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ নজর রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।