ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও কিভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের উপজেলা কেন্দ্রিক অর্থাৎ তৃণমূল নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে বেশির ভাগই কোনো না কোনো দলের হয়ে তারা নির্বাচনে কাজ করেছেন। তারা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও চেয়েছেন। তারা বেশিরভাগই বিএনপি জামায়াত বা অন্য কোনো দলকে ভোট দিয়েছেন। সেই হিসেবে এই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। ‘
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে দলটির কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যদিও দলের একটি অংশ ভোট বর্জন করেছে যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও সাড়া দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি অংশগ্রহণকারী অন্য দলগুলোতে যোগদান বা তাদের প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে কিনা জানতে চাইলে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়নি। এমন কিছু ঘটেনি, যাতে বলা যায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন ২০৯ জন। সংসদ সদস্যদের গড় বয়স ৫৯, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম গড় বয়স। ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমান ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগত ভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ। এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরাই সবচে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে যদিও নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষনীয় ছিল। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও পরিপন্থী আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে।