ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। তবে এই ঋণের কারণে তাদের খেলাপি ঋণধারী বলা যাবে না- বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা বলেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, দলগত ভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ। এই ঋণধারী ব্যক্তিদের ঋণ খেলাপি বলা যাবেনা। কারণ, তারা ব্যাংকের মাধ্যমে যেভাবেই হোক ঋণ খেলাপি নাম কাটিয়েছে। তাদেরকে দায়গ্রস্থ বা ঋণগ্রস্থ বলা যাবে।
তিনি বলেন, এবার ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য, আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি, আর ১৩ জন শতকোটিপতি।
এদিকে প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা ঋণগ্রস্থ্দের মধ্যে শীর্ষ ১০ জন হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। তারা হলেন – হবিগঞ্জ -৪ আসনে (বিএনপি প্রার্থী) এস এম ফয়সলের ২ হাজার ৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোঃ খালেদ হোসেন মাহবুবের ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানমের ১ হাজার ৩৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে মোঃ আব্দুল্লাহ্ এ ১ হাজার ১১৫ কোটি ২ লাখ টাকা, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের ৮৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম ৭৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৬৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, শরীয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর ৩২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ২৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং রাজবাড়ী-১ আসনে জয়ী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের ২৯৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে দায় বা ঋণগ্রস্ত বিগত সংসদ সদস্যের হার হিসেবে দেখা যায়, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৪৯.৮৩ শতাংশ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৫২ শতাংশ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৫১.৩৩ শতাংশ, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৫৬.০১ শতাংশ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৩.৬৮ শতাংশ।