যশোর: ‘স্বাদে সেরা, গন্ধে ভরা, খেজুর গুড়ে মনোহরা’- এই প্রতিপাদ্যে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় দুই দিনের খেজুর গুড় মেলা শুরু হয়েছে। ‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’ এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মেলার আয়োজন করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মেলা উপলক্ষ্যে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমদ। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাছিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় ১৫টি স্টলে নিজেদের তৈরি খেজুর গুড়, পাটালি ও কৃষি পণ্য নিয়ে স্বতঃস্ফুর্ত অংশ নেন গাছিরা।
মেলায় অংশ নেওয়া হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠ চাকলা গ্রামের গাছি আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘প্রতি বছর খেজুর গুড়ের মেলা হওয়ায় গাছিরা বেশি উপকৃত হচ্ছে। গাছি ও ভোক্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে খেজুর গুড়ের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খেজুর গুড় পাটালির চাহিদা বেড়েছে। দামও বেশি পাচ্ছি। গাছিরা রস, গুড় ও পাটালির ন্যায্য দাম পাচ্ছে।’
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের গাছি ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমরা বংশ পরম্পরায় খেজুর গুড় পাটালি তৈরি করি। মেলায় বিশেষ ধরণের হাজারি গুড় (সাদা রঙের পাটালি) নিয়ে এসেছি। এই গুড় আমাদের অঞ্চলের গুড়, পাটালির রঙ সাধারণ লালচে কিংবা কালচে হয়। কিন্তু আমরা তৈরি করি সাদা রঙের গুড় পাটালি। এই গুড় আমাদের অঞ্চলে তেমন কেউ তৈরি করে না। এটি মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় নামে পরিচিত। স্বচ্ছ রস ও পরিস্কার পাতিলে এই রস সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়া জ্বালানো হয়। এজন্য এই রসের গুড় সাদা হয়। বিশেষ ধরণের এ গুড়ের দাম ও চাহিদা বেশি। মেলায় এসেছি গুড় পাটালি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে, বিক্রি মুখ্য নয়।’
চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, ‘যশোরের সুনামের সঙ্গে মিশে আছে খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য। যশোরের খেজুর রস-গুড়ের ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের। জেলায় বছরে শত কোটি টাকার খেজুর গুড় পাটালি তৈরি হয়। যশোরের গুড় পাটালির সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশেও। সময়ের পরিক্রমায় বিলুপ্তির পথে এ ঐতিহ্য। তাই খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। মেলায় চাষিদের উৎপাদিত গুড় সম্পর্কে ভোক্তা ধারণা পাচ্ছে। আবার গাছিদের সঙ্গে ভোক্তার সরাসরি মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে। গুড়ের বাজার সম্প্রসারণ হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যশোরে উৎপাদিত খেজুর গুড় অর্গানিক হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ অঞ্চলের খেজুর গুড় পাটালি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চৌগাছায় মেলার আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও মেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে খেজুর গুড় যশোরের জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলায় প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকার গুড় উৎপাদন হয়। এই গুড়ের কদর রয়েছে দেশ বিদেশে।’