পাবনা: পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুরে দেড় বিঘা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের মারধরে আহত কৃষক লোকমান সরদার (৭০) মারা গেছেন।
গত ২৪ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুর রহমান বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত লোকমান সরকার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিন সরদারের ছেলে। আর অভিযুক্ত চাচাতো ভাই কোরবান সরদার একই গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রমজান সরদার বাদি হয়ে গত ২৬ জানুয়ারি আমিনপুর থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মারামারির মামলা দায়ের করেছেন। এখন হত্যা মামলায় রুপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমিনপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের লোকমান সরদার হোগলাডাঙ্গি চরে দেড় বিঘা জমিতে জব বপন করেছিলেন। সম্প্রতি সেই জমি নিজেদের দাবি করেন তার চাচাতো ভাই একইগ্রামের কোরবান আলী সরদার ও তার ছেলেরা। এ নিয়ে দেখা দেয় বিরোধ। গত ২৪ জানুয়ারি কোরবান সরদার, তার ছেলে রফিকুল, শফিকুল, কোরবানের চাচাতো ভাই-ভাতিজা দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে সেই জমি দখল করতে যান। তারা পাওয়ার টিলার দিয়ে দেড় বিঘা জমির জব সম্পূর্ন নষ্ট করে দেন। খবর পেয়ে লোকমান ও তার ছেলে সজিব বাধা দিতে গেলে তাদের এলোপাথারি মারধর করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কাশিনাথপুর স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে লোকমান হোসেনকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান লোকমান।
তার মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত কোরবান ও তার ছেলে ভাতিজারা। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিহতের ভাই রমজান সরদার বলেন, ’আমরা ৫০ বছর ধরে ওয়ারিশ সূত্রে জমি ভোগ দখল করে আসছি। কোরবান সরদারের দাদা বা তাদের পূর্বপুরুষরা কখনও জমি দাবি করেনি। আজ তারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে জমি জবর দখল করতে যায়। তাদের মারধরে আমার ভাই মারা গেছে। আমরা তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, ‘ওই ঘটনায় একটি মারামারির মামলা রুজু হয়েছিল। এখন যেহেতু মারা গেছে তাই সেটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে। সেই প্রক্রিয়া চলছে। আসামিরা জামিনে রয়েছেন বিধায় তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তাই তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’