ঢাকা: রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর তীব্র যানজট নিরসন এবং জনভোগান্তি লাঘবে সারাদেশে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাটে, মাঠে, ঘাটে এবং অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। জনজীবনের এই অসহনীয় দুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে কখনোই স্বস্তি ফিরবে না।
রাজধানীতে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে বিকল্প ও টেকসই ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের ওপর মানুষের অতিনির্ভরতা কমাতে হবে। মানুষ যাতে নিজ জেলায় কিংবা নিজের গ্রাম থেকে সহজভাবে এবং সঠিক সময়ে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার সারাদেশে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুরুতেই রেল, নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে যাতে পরিবহন খাতে একটি সুসংহত ও আধুনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভাষণে রেলযোগাযোগের বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ, সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর ও নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের পরিস্থিতিরও ব্যাপক উন্নতি হবে।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে মানুষ যাতায়াতের সময় ও খরচ বাঁচাতে পারবে এবং রাজধানীর আবাসন ও যানজট সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত হবে।
সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিকের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরামদায়ক ও নিরাপদ করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি জানান, নবগঠিত এই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রেলকে গণপরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং একটি গতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই রেল সংযোগ প্রকল্পগুলো মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।