চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে। তবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মার্কিন বিমানবাহিনীর রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও যুদ্ধবিমানও মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রমতে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের মুখে ইরান তাদের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা শক্তিশালী করছে। কংক্রিট ও মাটি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আরও গভীরে সুরক্ষিত করার কাজ চলছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সাড়ে তিন ঘণ্টা পরোক্ষ আলোচনা হয়। তবে কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ইরানের প্রধান আলোচক বলেছেন, উভয় পক্ষ কিছু নির্দেশক নীতিমালাতে একমত হয়েছে, যদিও এখনো অনেক বিষয়ে আলোচনা বাকি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আলোচনার অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন কি না সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
হামলার সময় নির্ধারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী রোববার শীতকালীন অলিম্পিক শেষ হচ্ছে। এর আগে কোনো হামলার সম্ভাবনা দেখছেন না ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলো রমজানের সময় হামলার বিরোধিতা করছে। ট্রাম্প এই বিষয়গুলোকে হামলার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিচ্ছেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।