Thursday 19 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে টিসিবির রমজান ভর্তুকি পণ্য বিক্রিতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৫

টিসিবির ট্রাক থেকে ভর্তুকি মূল্যে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের লম্বা লাইন।

রংপুর: পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১৫টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই ট্রাক দাঁড়ানোর স্থানগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়ছে, অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দাবি প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে ট্রাক সেল চালু করা হোক, যাতে সবাই সহজে সুলভমূল্যের পণ্য কিনতে পারেন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে ৪৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালু করেছে, যা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে (সরকারি ছুটি ও শুক্রবার বাদে)।

বিজ্ঞাপন

এতে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯০ টাকা, যাতে থাকে ২ লিটার সয়াবিন তেল (১১৫ টাকা/লিটার), ১ কেজি চিনি (৮০ টাকা/কেজি), ২ কেজি মসুর ডাল (৭০ টাকা/কেজি), ১ কেজি ছোলা (৬০ টাকা/কেজি) ও আধা কেজি খেজুর (১৬০ টাকা/কেজি)। প্রতি ট্রাক থেকে দৈনিক প্রায় ৪০০ জন গ্রাহক পণ্য কিনতে পারবেন। ফলে রংপুরে ১৫টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

সারাদেশে এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৩৫ লাখ ভোক্তাকে সহায়তা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরাও এ সুবিধা নিতে পারছেন। রমজান শুরুর আগেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, তবে সীমিত ট্রাকের কারণে দুর্ভোগ কমছে না।

ধাপ এলাকার কোহিনূর আক্তার বলেন, ‘টিসিবির পণ্য হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বিশাল স্বস্তি। বাজারের যা অবস্থা, এ সেবা সাময়িক হলেও আমাদের উপকারে আসছে। যদিও পণ্য নির্দিষ্ট, তবু পুরো রমজানজুড়ে এটা চালু রাখার দাবি জানাই।’

জুম্মাপাড়ার রমজান আলী বলেন, ‘বাংলাদেশে রমজান এলেই সব পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ মাসটা খুব কষ্টের। টিসিবির সুলভমূল্যের উদ্যোগ ভালো, কিন্তু আরও ট্রাক বাড়ালে সবার কাছে পৌঁছাত।’

দিনমজুর কুলসুন বেগম বলেন, ‘দিন আনি দিন খাই। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও কিছু পাইনি। কখন পাব,তার নিশ্চয়তা নেই। গরিব মানুষ তো কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য। কষ্ট হলেও উপায় নেই।’

টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক উপপরিচালক ও অফিস প্রধান হাবিবুর রহমান জানান, পণ্য বিক্রি হবে প্রতিদিন, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন বাদে। ফ্যামিলি কার্ডধারীসহ সাধারণ গ্রাহকরা সবাই কিনতে পারবেন। রংপুর সিটিতে নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে সুবিধা পান, সেজন্য একেক দিন একেক স্পটে বিক্রি হচ্ছে। আপাতত ১৫টি ট্রাকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। রংপুর সিটির বাইরে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় ৫টি পয়েন্টে বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

তবে রংপুরের মতো বিভাগীয় শহরে ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো না হলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার দাবি জোরালো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর