Friday 27 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ঢাকায় আসতে চান শেহবাজ শরিফ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৭

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী এবং ঢাকায় আসতে চান। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে তিনি একথা জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে নতুন সরকার গঠন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন দেশের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকগুলোর মধ্যে ছিল পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলোচনা। সেরিং মোদু এনজি নির্বাহী সভার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

বৈঠকগুলোতে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান অংশগ্রহণকারী নেতারা। তারা একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থনেরও প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।

ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং ঢাকায় আসতে চান। দার আশা প্রকাশ করেন, ঢাকার নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে।

তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও বিস্তারের আশা ব্যক্ত করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করেন।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঘাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের দৃঢ় ও ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের স্বার্থ সমুন্নত থাকবে। ফিলিস্তিনি এই মন্ত্রী বলেন, আরব-ইসলামিক দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পক্ষে গাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এনজি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং এ বিষয়ে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম.জে.এইচ. জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর