Saturday 28 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এলডিসি-উত্তরণ পেছানো: বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৭

-ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ আরও তিন বছর পেছানোর জন্য বাংলাদেশের আবেদন গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। আবেদনে উল্লেখিত কারণগুলো পর্যালোচনা-পূর্বক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ-এর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’ (সিপিডি)-এর বিশেষ ফেলো এবং সিডিপি’র এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ঢাকার সাংবাদিকদের এ কথা জানান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে শুরু হওয়া সিডিপি’র চলমান পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকে অংশ নিতে তিনি এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার যে আবেদন করেছে, তার পর্যালোচনা শুরু করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। তবে আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি এরইমধ্যে অনুমোদিত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সিডিপির সিদ্ধান্ত আসতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ইএমএম কাঠামোর মধ্যে ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে ব্যবস্থা রয়েছে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা অভাবিত কিছু ঘটে, তখনই এই সুযোগ ব্যবহার করা হয়। এই চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ‘ক্রাইসিস বাটন’ চেপে দিয়েছে। বাংলাদেশের আবেদন এখন এই ক্যাটাগরির আওতায় বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ অভাবিত কিছু ঘটেছে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে কি না, তা যাচাই–বাছাই করে দেখা হবে।

তিনি জানান, সিডিপি প্রথমে সরকারের উত্থাপিত যুক্তিগুলো যাচাই করবে। এরপর তারা তাদের সুপারিশ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) পাঠাবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যাবে।

জানা যায়, এলডিসি থেকে ইতোমধ্যে বেরিয়ে যাওয়া ও উত্তরণের অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় চলতি সপ্তাহে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইএমএম উপকমিটির। বর্তমানে বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমান শিডিউল অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। উত্তরণের আগে তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এখন চলমান।

প্রসঙ্গত: তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ আর জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয়, অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। করোনার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৮

আরো

সম্পর্কিত খবর