ঢাকা: সংবাদপত্র শিল্পের টিকে থাকা ও আর্থিক চাপ মোকাবিলায় কর্মীদের আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেওয়াসহ একাধিক কর সুবিধা চেয়েছে ‘নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (নোয়াব)। একইসঙ্গে নিউজপ্রিন্টে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার এবং কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার(৩১ মার্চ) রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরে নোয়াব নেতারা।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় নোয়াব যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- সংবাদপত্র শিল্পে কর্পোরেট কর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা; নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ৩ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার; ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ বাতিল; কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি; কর্মীদের আয়কর প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে কর্মীদের নিজস্ব দায়ে প্রদান নিশ্চিত করা।
নোয়াবের দাবি, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সংবাদপত্র শিল্প মারাত্মক চাপে রয়েছে এবং টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশে অনেক রফতানিমুখী শিল্প ১০-১২ শতাংশ কর সুবিধা পেলেও সংবাদপত্র শিল্প সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গণমাধ্যমের সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই খাতকে একই ধরনের কর সুবিধা দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ওয়েজবোর্ড কাঠামোর কারণে কর্মীদের আয়কর প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক। আয়কর আইন অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীর নিজের কর নিজেই পরিশোধ করা উচিত।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান নোয়াব-এর কিছু দাবিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকার করে বলেন, কর্মীদের আয়কর কর্মীরাই দেবেন—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম, ভবিষ্যতে ওয়েজবোর্ডে এ বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। কর্পোরেট কর কমানো কঠিন হলেও না বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া যেতে পারে এবংভ্যাট সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাজেটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে।
নোয়াব-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ৩ শতাংশ শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে মোট খরচ ১৩০-১৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে সংবাদপত্রের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর ৫ শতাংশ উৎস করসহ বিভিন্ন কর মিলিয়ে মোট করের চাপ প্রায় ১০ শতাংশে দাঁড়ালেও অনেক প্রতিষ্ঠানের লাভের হার এর চেয়েও কম। ফলে কর সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।