Tuesday 31 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসায় কর হার ০.৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব ইআরএ‌ফ’র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫২ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে একগুচ্ছ প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে।
সংগঠনটির মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর বিদ্যমান করের হার সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ইআরএফ সভাপ‌তি দৌলত আকতার মালা এসব দাবি তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অতিরিক্ত কর ফেরতের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি যাদের করযোগ্য আয় নেই, তাদের ব্যাংক সুদের ওপর কাটা কর ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

ইআরএফ মনে করে, উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা যেতে পারে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং আয় বৈষম্য কিছুটা কমবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে উৎসাহ দিতে আলাদা রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং সহজ শর্তে বন্ড সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থে‌কে। সংগঠনটির মতে, এই খাতই দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।

সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বেসরকারি খাতের কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডকেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইআরএফ। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রস্তাবনায় বড় অংকের কর ফাঁকি, ওভার ইনভয়েসিং এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে এনবিআরকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইআরএফের মতে, এই খাতগুলোতে নজরদারি জোরদার করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আহরণ সম্ভব।

বর্তমান বাজার মূল্যের ভিত্তিতে সম্পদ কর আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটে থাকা প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ওপর করহার কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।

ইআরএফ এনবিআর-এর ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিভাগে সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি করদাতারা রিটার্ন জমা দিতে কত সময় ব্যয় করেন এবং কী ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হন, তা নিরূপণে “টাইম রিলিজ স্টাডি” চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটি এনবিআর-এর ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত (যেমন ৫ মিনিটে সম্পন্ন) করা গেলে তা প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, ইআরএফ-এর প্রস্তাবনাগুলোতে সাধারণ মানুষের করের বোঝা লাঘব, উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায় এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর