ঢাকা: বেসরকারি খাতের এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এসএম মঈনুল কবীর জানিয়েছেন, ব্যাংকটির আমানত ১১ হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মঈনুল কবীর বলেন, ২০১৩ সালে ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক’ নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে চলছে। ব্যাংকটির লক্ষ্য শুধু মুনাফা নয়; বরং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমানে ব্যাংকটির ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট এবং ৭৭টি এটিএমের মাধ্যমে সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। পাশাপাশি ১০টি শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবাও প্রদান করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এমডি জানান, আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স এবং মোট সম্পদসহ অধিকাংশ সূচকেই ব্যাংকটির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট সম্পদ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। যেখানে সার্বিক ব্যাংকিং খাতে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ, সেখানে এসবিএসি ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৫ শতাংশ।
তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, অনেক ব্যাংক সমস্যায় থাকলেও এসবিএসি ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮৭ শতাংশ হলেও ব্যাংকটি তা ৮১–৮৩ শতাংশের মধ্যে বজায় রেখেছে। এছাড়া ব্যাংকটির অতিরিক্ত তারল্য এক হাজার কোটিরও বেশি।
ব্যাংকটির বিনিয়োগ নীতিতে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মোট বিনিয়োগের প্রায় ৩৪–৩৫ শতাংশ এই খাতে রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এমডি। অনলাইন লেনদেনে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্যে ডিজিটাল সেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক গ্রাহক সমস্যায় পড়লেও তাদের ব্যবসা সচল রাখতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।